পেকুয়া প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেপথ্যে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের কৌশলগত রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী এবং গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল সমন্বয় হয়েছিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়। সালাহউদ্দিন আহমেদ যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ের এই দায়িত্ব পালন না করতেন, তবে ৩৬ দিনের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফলভাবে সম্পন্ন হতো কি না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা মোলার পাড়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে রাশেদ খান বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে বিএনপির অবদান নিয়ে অনর্থক প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য একটাই উত্তর ১৬ জুলাই আত্মাহুতি দেওয়া ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম। ওয়াসিমের শ্রদ্ধেয় পিতার পাশে দাঁড়িয়ে ও তাঁর কবর জিয়ারত করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। যে বেদনা ও কষ্টের কথা আমি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমেদের মুখে শুনেছিলাম, আজ শহীদ পরিবারের পাশে এসে সেই স্মৃতি মনে পড়ছে।
২০২৪-এর আন্দোলনকে রাষ্ট্র সংস্কারে রূপান্তরের রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে রাশেদ খান আরও বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভিপি নুরুল হক নুর এবং আমাকে দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে যখন প্রতারণার মাধ্যমে পুনরায় কোটা ফিরিয়ে আনা হলো, তখন আমি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে কথা বলি।
আমার পরিষ্কার বক্তব্য ছিল এই আন্দোলনকে কেবল কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, এটিকে স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমেদ তখন মূল সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন। একদিকে ছাত্ররা রাজপথে লড়াই করেছে, অন্যদিকে আমরা পিছন থেকে রাজনৈতিক কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করেছি।
গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনী অসংখ্য লাশ গুম করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে শহীদের সঠিক সংখ্যা বের করা কঠিন ছিল। তবে জাতিসংঘ তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪ শত বা তার অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদসহ যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।
কবর জিয়ারত শেষে শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলমের কাঁধে হাত রেখে রাশেদ খান বলেন, আপনি এতটুকু বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ আপনি পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এই শহীদ স্মৃতিতে আসেন, তাই এখানে প্রবেশের প্রধান রাস্তাটির টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ শিগগিরই আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গ্রহণ করবেন। পুরো বিএনপি পরিবার আপনাদের পাশে রয়েছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুটের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছেন, বিশ্বাস রাখেন সব সমস্যার সমাধান তিনিই করবেন।
উক্ত কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাতে শহীদ ওয়াসিমের পিতা শফিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, তাঁতীদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন, গণঅধিকার পরিষদ কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রাইম কাদের, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্য সচিব আবুল কাশেম নুরী, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা হিরণ সরওয়ারসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
